দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ০৩

এই সিরিজের অন্যান্য লেখাঃ


আমি চোখ বুঁজে বসে আছি। বিমানবালা হুড়মুড় করে সব নিয়মকানুন বলছে। বিমান দুর্ঘটনায় পতিত হলে কী করতে হবে তা বলে যাচ্ছে একে একে। সুন্দরী বিমানবালাকে উদ্দেশ্য করে মনে মনে একটা দুষ্টু গাল দিলাম, "নগদ পয়সা খরচ করে বিমানে চড়ছি আর তুমি দুর্ঘটনার আলাপ োদাও?" সুন্দরীকে উদ্দেশ্য করে দেবার জন্য আরও কয়েকটা গালাগাল খুঁজে বেড়াচ্ছি এমন সময় হঠাৎ বউয়ের ঝাড়ি।

"এই তুমি পাদ দিসো?" চাপা গলায় হিসহিসিয়ে উঠল বউ।
আমি ততোধিক অবাক হয়ে বললাম, "কই না তো!"
বউ রেগে বললো, "মিথ্যা কথা বল কেন? পাদ দিসো আবার অস্বীকার কর? ছিঃ!"
আমিও রেগে উঠলাম। রেগে উঠে বললাম, "মর জ্বালা! পাছা আমার আর তুমি ঠিক করবা আমি পাদ দিসি কি দিই নাই? ক্যামনে কী?"

তখন দুজনেই বুঝতে পারলাম আসল ঘটনা কী। বিমানে আমাদের সিট পড়েছে স্টারবোর্ড সাইডে (ডানদিকের সারিতে)— বউ জানালার পাশে, আমি মাঝখানের সিটে, আমার বাম পাশে এক দৈত্য। সেই দৈত্য ব্যাটাই আমার নাম করে পাদ ঝেড়ে দিয়েছে। যাকে বলে 'উদোর পাদ বুধোর পোঁদে' অবস্থা। ঘাড় বেঁকিয়ে দৈত্যের দিকে তাকালাম, তারপর নিজেকে সামলে নিলাম। যা সাইজ- মাশাল্লাহ! একটু জোরে ফুঁ দিলেই বিমান দুর্ঘটনায় পতিত হবে।

বিমানের ভেতরে যতদূর চোখ যায় কেবল পিচ্চি আর পিচ্চি। আমাদের বাম পাশের সারিতে ছয় সিট জুড়ে এক পরিবার যাচ্ছে। বুড়ো বাবা-মা, ছেলে, ছেলের বউ এবং তাদের দুটো পিচ্চি। আমেরিকার বুকে অতি বিরল এক দৃশ্য। পরীর মত দেখতে ছোট্ট মেয়েটি একটু পর পর চিৎকার দিচ্ছে, "হুররে! আয়্যাম গোইন ট্যু ডিজনী ওয়ার্ল্ড!"
আশেপাশের যেই তার দিকে তাকাচ্ছে তাকেই সে এক কথা জানিয়ে দিতে ছাড়ছে না। দৈত্যের আড়াল থাকায় মেয়েটি আমাদেরকে দেখতে পাচ্ছিলো না।

অরল্যান্ডো এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করার পর যাত্রীরা যখন আসন ছাড়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল তখন মেয়েটি আমাদের দুজনকে দেখতে পেল। বহুবার বলা কথাটি আরেকবার বলার জন্য অনুমতি প্রার্থণার ভঙ্গিতে মেয়েটি তার বাবার দিকে তাকাল। মেয়েটির বাবা একগাল হেসে বললেন, "আচ্ছা, তুমি এদেরও বলতে পার।" মেয়েটি সাথে সাথেই বললো, "জানো? কাল আমি ডিজনী ওয়ার্ল্ড যাচ্ছি!"

বউ বললো, "আমিও!" পিচ্চি ঘাবড়ে গেল।

অরল্যান্ডোতে ব্যাগেজ ক্লেইম করার পর পীযুষ আর ইমণকে খুঁজে বের করলাম। আমরা যেখানে হোটেল ভাড়া করেছি সেখান থেকে ইউনিভার্সাল স্টুডিওতে হেঁটে যাওয়া সম্ভব। হোটেলটা এয়ারপোর্ট এবং ওয়াল্ট ডিজনী ম্যাজিক কিংডম থেকে মাঝামাঝি দূরত্বে। সুতারাং ডিজনী ওয়ার্ল্ডের দিন এবং এয়ারপোর্টে ফিরে আসার দিন ছাড়া আমাদের আর গাড়ির প্রয়োজন হবে না। ফ্লোরিডায় বসবাসকারী এক বন্ধু আগাম সতর্কবাণী দিয়ে রেখেছিল—"সাবধাণ, ভুলেও ট্যাক্সি ভাড়া করিস না। একেবারে ছিলে ফেলবে!"

অরল্যান্ডোতে এয়ারপোর্ট থেকে প্রত্যেকটা হোটেলে যাত্রী পরিবহনের জন্য 'মিয়ার্স' নামে একটা বাস সার্ভিস আছে। আমরা চারজন ব্যাগ টানতে টানতে মিয়ার্স এর কাউন্টারে উপস্থিত হলাম। কাউন্টারে বসে থাকা নট—সো—হট মহিলাটিকে জিজ্ঞেস করলাম, "এই বাস কী অমুক হোটেলে যায়?"

নট—সো—হট মহিলা উত্তর দিল, 'ড্যাটস্ কারেক্ট!"
"এয়ারপোর্ট থেকে অমুক হোটেলে পৌঁছুতে কতটুকু সময় লাগতে পারে?"
"তা ঘন্টা দুই তো হবেই!'
"দুই ঘন্টা সময় লাগবে?" মাঝখান থেকে প্রশ্ন করলো আমার বউ।
"ইয়েস মাই ফ্রেন্ড। বাসটা এয়ারপোর্ট থেকে তোমাদের হোটেলে যেতে পথিমধ্যে যতগুলো হোটেল পড়বে, সবগুলোতেই থামবে।"
"টিকেটের দাম কত একটু বলবেন কি?"
"জনপ্রতি ১৭ ডলার করে!" উত্তর দিল মহিলা।
"আর যদি ট্যাক্সিতে যাই তাহলে কত খরচ পড়তে পারে?" জিজ্ঞাসা করল গিন্নি।
"চল্লিশ ডলারের কাছাকাছি লাগতে পারে।" উত্তর দিল মহিলা।
"আর সময়?" আবারও প্রশ্ন করল গিন্নি।
"বড়জোর ২০ মিনিট।"

আমার মনে হল মহিলার ঘাড় ধরে একটা ঝাঁকি দিয়ে বলি, "তা আগে কবি তো!"

ট্যাক্সিওয়ালা যথারীতি স্প্যানিশভাষী 'অ্যামিগো'। আমরা বাংলায় কথা বলছি। আমাদের কথোপকথন থেকেই ব্যাটা কার না কী তা ঠাওর করে ফেলল। একটু পরে ব্যাটা ইমণকে জিজ্ঞাসা করল, "ইমণ। অরল্যান্ডো কেমন লাগছে?"

মোটেলে পৌঁছে সবকিছু বুঝে নিলাম। একটু সস্তা ধরনের হোটেল। তাতে কীই বা এসে যায়? আমাদের কেবল রাত্রে পাছা ঠ্যাকানো দিয়ে কথা। হোটেলের লোকেশন অতি চমৎকার। ইউনিভার্সাল স্টুডিও থেকে মাত্র আধমাইল দূরে।

সবকিছু আনপ্যাক করার পর ব্যাগ থেকে খিচুড়ি, মুরগীর মাংস বের করা হল। মোটেলের সামনে সুন্দর ছিমছাম একটা সুইমিং পুল। পাশে একটা মদ খাবার দোকান।

খিচুড়ি আর মুরগীর মাংস নিয়ে সুইমিং পুলের ধারে এক ছাউনির নিচে গিয়ে বসলাম। তার আগে খিচুড়ি গরম করতে হয়েছিল মোটেলের লাগোয়া দোকানটিতে। দোকানী ফিলিস্তিনের মানুষ। আমাদের খাবার বয়ে আনা দেখেই তিনি ধরে নিলেন আমরা মুসলিম, বাইরের হারাম খাবারের স্পর্শ থেকে বাঁচার জন্যই নিজেরাই খাবার নিয়ে এসেছি। তাকে আর কিছু বলতে পারলাম না। তাড়াতাড়ি খাবার গরম করে নিয়ে সরে এলাম।

প্লেটে চমৎকার খাবার। চারপাশে চমৎকার পরিবেশ। একটু দূরে সুইমিংপুলে চমৎকার সব নারী! এরই মাঝে হঠাৎ বৃষ্টি নেমে এল। সে এক ত্রাহি মধূসুদন অবস্থা। না পারি খাবার ফেলে দৌড় দিতে। আবার না পারি ভিজে ভিজে খেতে। ছাউনির কারনে খাবারটা অন্তত ভেজার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে।

খাওয়াদাওয়ার পালা সেরে সেদিনের মত নিদ্রাদেবীর সরণাপন্ন হতে গেলাম। পরদিন সকাল সাতটায় বাস ছাড়বে ওয়াল্ট ডিজনী ওয়ার্ল্ড রিসোর্টের উদ্দেশ্যে।

অনলাইন রাইটার্স কমিউনিটি সচলায়তনে প্রথম প্রকাশিত
জুন 0৬, ২০০৮

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ০২

এই সিরিজের অন্যান্য লেখাঃ


অরল্যান্ডো ভ্রমণের গল্পের শিরোনাম "দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া" রাখার পেছনে একটি যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। পড়ুয়ারা ভাবতে পারেন "বহুদিন ধরে বহু্ক্রোশ দূরে" থেকে মেরে দিয়েছি। কিন্তু আপনাদের নিশ্চয়তা দিয়েই বলছি, নামটি ঠাকুর্দার কাছ থেকে মারিনি। নামটি পুরোপুরি মৌলিক।

আমার বিভিন্ন ধরনের ভীতি আছে। উচ্চতাভীতি থেকে শুরু করে পত্নীরপ্যানপ্যানানীভীতি পর্যন্ত যত ধরনের ভীতি থাকা সম্ভব তার সবগুলোই আমার ভেতর বিদ্যমান। ভয় পেলেই আমি চোখ বন্ধ করে ফেলি। কেননা চোখ বন্ধ করে ফেললেই ভয়ের ব্যাপারগুলো চোখের সামনে থেকে আড়াল হয়ে যায়। আর অদৃশ্য জিনিষে ভয় পাওয়ার কোন যুক্তি নেই। অরল্যান্ডোর ডিজনীল্যান্ড আর ইউনিভার্সাল স্টুডিওতে রোমহর্ষক সব রাইডে চড়তে গিয়ে দিনের বেশিরভাগ সময় ধরেই আমাকে চোখ বন্ধ করে রাখতে হয়েছিল। আর তাই অরল্যান্ডো ভ্রমণকাহিনী লিখতে বসে শিরোনাম হিসাবে "দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া" লেখাটাই সমীচীন বোধ করলাম। কেননা ডিজনী ওয়ার্ল্ড আর ইউনিভার্সাল স্টুডিওর রূপ আমাকে চোখ বন্ধ রেখেই উপভোগ করতে হয়েছিল।

যাই হোক। প্যাচাল বাদ দিয়ে ভ্রমণের গল্পে ফিরে যাই।

অ্যাডভাইজারকে মুড়ি খেতে দিয়ে এবং যমের মুখে ছাই ছুঁড়ে মেরে শেষ পর্যন্ত আমরা আটলান্টা গিয়ে পৌঁছালাম। আমরা মানুষ মোটে দুইজন কিন্তু আমাদের ব্যাগ সর্বমোট পাঁচটা! বউকে জিজ্ঞেস করলাম, "অ্যাতো ব্যাগ ক্যানো?"

বউ একগাল হেসে বললো, "এই যে ব্যাগদুটো দেখছো না? এই যে বড় বড় ব্যাগ দুটো! এগুলোতে ভরে খিচুড়ি নিয়ে চলেছি। খিচুড়ির সাথে মুরগীর রান ভাজা।"

শুনে আমার পেটের ভাত খিচুড়ি হবার দশা —বলে কী এই আওরাত! আলাবামা থেকে খিচুড়ি নিয়ে চলেছে অরল্যান্ডোতে! জিজ্ঞেস করলাম, "কেন?"

বউ বললো, "খিচুড়ি দিয়ে কী করে?"

আমি বললাম, "মানুষে কী করে তা আমি জানি না। তবে আমি মনে হয় খাই।"

বউ বললো, "তাহলে তাই। খাওয়ার জন্যই নিয়ে যাচ্ছি।"

আমি তখন আবার বললাম, "কিন্তু তোমাকে না বললাম হাওয়াবদলের আরেক অর্থ হচ্ছে খাওয়াবদল। নতুন একটা জায়গা দেখতে গিয়েও যদি ঘরের খাবার খেতে হয় তাহলে ক্যামনে কী?"

বউ বললো, "তোমাকে কে খেতে বলেছে? তোমার ইচ্ছা না হলে খাবে না। এসব যাচ্ছে ছোট ভাই পীযুষ আর তার বন্ধু ইমণের জন্য। কারন ওরা নিউ ইয়র্ক থেকে মিহিদানা লাড্ডু, সন্দেশ ইত্যাদি নিয়ে আসবে আমার জন্য।"

মিহিদানা লাড্ডু বয়ে আনার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ খিচুড়ি বহন করে নিয়ে যাবার আইডিয়াতে ভেটো দিই আমি— খানিকটা রেগে যাই। বউ তখন বলে, "চা খাবা?"

ব্যাস এতেই কাজ হয়! আমার রাগ পড়ে আসে। মনে পড়ে যায় বঙ্গভবনের চায়ের দাওয়াতের কথা।

আটলান্টায় পরিচিত এক বাসায় একদিন বেড়িয়ে পরদিন বিকেলবেলায় আটলান্টা এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিই।

আটলান্টা এয়ারপোর্টের এক চিপায় আমাদের জন্য নির্ধারিত গেইটে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সাথে বসে রানওয়ের রূপসুধা উপভোগ করি কিছুক্ষণ। যথাসময়ে বিমানের ভেতর ঢুকে একটা দড়ি দিয়ে নিজেকে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধি। একটু পরেই পক্কবিম্বাধরোষ্ঠী শিখরীদশনা শ্রোণীভারাদলসগমনা স্তোকনম্রাস্তনাভ্যাং এক শব্দে বলিতে গেলে হট [কৃতজ্ঞতা: মুখফোড়] এক বিমানবালা এসে পেটে হাত দেবার ভঙ্গি করে যে দড়িখানা দিয়ে নিজেকে বেঁধেছি তা চেক করতে লাগল। তারপর ফিরে গিয়ে ঘোষণা দিল: অমুক পরিবহনে ভ্রমণ করার জন্য ধন্যবাদ...হ্যান ত্যান। তারপর বললো— বিমানের ভেতর বিড়ি খাওয়ার অনুমতি প্রদান করা হল। তারপর সামলে নিয়ে আবার বলল, বিমানের ভেতর বিড়ি খাওয়া সম্পুর্ণরূপে হারাম। বিড়ি খেতে পাই না অনেকদিন হয়ে গেল —তাই বিমানের ভেতর বিড়ি খেতে দিলেই কী আর না দিলেই কী? আমার কী আসে যায় তাতে? আমি চোখ বুঁজে টেক অফের প্রস্তুতি নিতে লাগলাম।

অনলাইন রাইটার্স কমিউনিটি সচলায়তনে প্রথম প্রকাশিত
জুন 0৫, ২০০৮

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ০১

০১. পূর্বকথা

আমার অ্যাডভাইজার মহাশয় দারুন খাইষ্টা লোক। তার হাবভাবে মনে হয় আমাকে দৌড়ের উপর রাখা ছাড়া তার আর কোন কাজ নেই। দুভার্গ্যক্রমে আমি মানুষটা তার চাইতেও বেশি খাইষ্টা! কাজেই অ্যাডভাইজারের কপালে রাবণঠাপ জুটবে সেটা বলাইবাহুল্য।

সামারের শুরুতে অ্যাডভাইজার দেখল আমার গায়ে কু-বাতাস লেগেছে। প্রতিদিন ১১/১২ টায় ঘুম থেকে উঠে দুপুরের খাবার খেয়ে ডিপার্টমেন্টে যেতে যেতে ২টা বেজে যায়। বেচারা মানুষের দুর্নাম করার জন্য আমাকে কাছে পায় না। শেষে নিরুপায় হয়ে আমাকে একটা ইমেইল পাঠাল—প্রিয় দ্রোহী। তুমি যদি এভাবে চলতে থাক তাহলে তোমার সামার সাপোর্ট বন্ধ করে দিব।

ইমেইল পড়ে আমার শরীর গরম হয়ে উঠল — অবশ্যই রাগে, অন্য কিছু ভেবে বসবেন না আবার! কালবিলম্ব না করে ব্যাটাকে রিপ্লাই দিলাম— প্রিয় চুদির ভাই। সারাদিন ডিপার্টমেন্টে তোমার সাথে বসে অপরের নামে গীবত করতে আমি রাজী না আর। আমি ফ্লোরিডা বেড়াতে যাচ্ছি জন্মদিন উপলক্ষ্যে। তুমি মুড়ি খাও বসে বসে। তারপর ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যানকে আলাদা একটা ইমেইল করলাম—প্রিয় চেয়ারম্যান। আমি চারদিনের জন্য একটু শহরের বাইরে যাচ্ছি। ইত্যবসরে কোন চুদির ভাই আমার হোগা মারতে চাইলে আপনি ঠেকাইবেন।

মোটামুটি এই হচ্ছে অরল্যান্ডো ভ্রমণের শুরুটুকু।

০২. অর্থের যোগান

নিউ ইয়র্কে আমার এক ছোট ভাই থাকে। নাম পীযুষ। চরম দুঃসময়ে তার কাছ থেকে বেশ ভাল পরিমান টাকা ধার করতে হয়েছিল। ট্যাক্স রিটার্ণ থেকে কিছু টাকা পাওয়ার পর ভাবলাম এবার ঋণের বোঝা কিছু হালকা করা যাক! আমাদের সংসার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চলে। আমি বড় বড় বিষয়গুলোর সিদ্ধান্ত নিই আর গিন্নির দায়িত্ব ছোট ছোট বিষয়গুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া। যেমন—'ইরাক প্রশ্নে জাতিসংঘের ভুমিকা কী হওয়া উচিৎ' অথবা 'ফিলিস্তিন-ইসরায়েল বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ভুমিকা কী হওয়া উচিৎ' জাতীয় বড় বড় বিষয়ে আমার সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। পক্ষান্তরে "দুপুরে কী রান্না হবে", "আমি কী ধরনের পোষাক পরবো", কিংবা "আমরা আগামী ছুটিতে কোথায় ঘুরতে যাব"—এইসব ছোটখাট সাংসারিক ব্যাপারগুলোর সিদ্ধান্ত গিন্নিই নিয়ে থাকে।

ঋণের বোঝা হালকা করার ব্যাপারে দুজনের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত জরুরী। আমি গিন্নিকে বললাম, "বাড়তি যে টাকাগুলো হাতে এসেছে, সেগুলো দিয়ে কিছু ঋণ শোধ করা যাক। আপাতত পীযুষের টাকাটা শোধ দিয়ে দিই। তুমি কি বল?"

গিন্নি বললো, "কিন্তু আমি ভাবছিলাম তোমার জন্মদিন উপলক্ষ্যে আমরা অরল্যান্ডোতে ঘুরতে যাব।"

অবশেষে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হল — আমরা অরল্যান্ডোতে ঘুরতে যাব। উপরি হিসাবে নিউ ইয়র্ক থেকে আগত সেই ছোট ভাইয়ের সব খরচও আমিই বহন করবো। তাতে ঋণের বোঝা কিছুটা হালকা হবে, যদিও আমার খরচের বোঝা বেড়ে যাবে।

০৩. পূর্ব পরিকল্পনা

গতবছর আমাদের বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গিন্নি নায়াগ্রা জলপ্রপাত দেখতে যাবার বায়না ধরেছিলেন। তিনি একদিন আমাকে বললেন, "এই চল না আমাদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে কোথাও গিয়ে হাওয়া বদল করে আসি।"

আমি বলেছিলাম, "শিবরাম চক্রবর্তী কী বলেছেন জানো? শিবরাম চক্রবর্তী বলেছেন যে—হাওয়াবদলের আসল মানে হচ্ছে খাওয়াবদল। হাওয়া আবার বদলায় নাকি? তামাম মুল্লুকেই ত এক হাওয়া! মুখ বদলাতেই মানুষ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যায়।"

"সুতারাং কোথাও যাবার দরকার নেই বরং ভালমন্দ কিছু রেঁধে ফেল। খেয়ে একটু গড়াগড়ি দেই। খাওয়া বদলের সাথে সাথে হাওয়া বদলও হয়ে যাবে।"

এবারও একই কথা বলতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু গিন্নি আমার কথায় ভ্রুক্ষেপ না করে আটলাণ্টা থেকে অরল্যান্ডো অবধি বিমান টিকেট খুঁজতে লেগে গেল। একবার ভাবলাম বলি যে— সামার সাপোর্ট যদি সত্যিই ক্যানসেল হয় তাহলে বিমান তো দুরের কথা, হেঁটে বাংলাদেশে যাওয়া লাগবে!

যমের মুখে ছাই দিয়ে আমাদের অরল্যান্ডো ভ্রমনের প্রস্তুতি এগুতে লাগল। দেখতে দেখতে যাবার দিনটি এসে পড়ল। আমরা দুজন যাত্রা শুরু করলাম আটলান্টার উদ্দেশ্যে। আলাবামা বর্ডার পার হবার আগ মুহুর্তে মনে মনে অ্যাডভাইজারকে আবারও বললাম, "চুদির ভাই। তুমি মুড়ি খাও। আমি চললাম অরল্যান্ডো তে।"

অনলাইন রাইটার্স কমিউনিটি সচলায়তনে প্রথম প্রকাশিত
জুন 0৩, ২০০৮

কয়েক টুকরো দারুচিনি ০৩

০১.

পার্টিতে সুবেশী বয়স্কা মহিলাকে এক উৎসাহী পুরুষ জিজ্ঞেস করলো, "আচ্ছা আপনার বয়স কত?"

মহিল উত্তর দিলেন, "চল্লিশের পথে এগোচ্ছি!"

পুরুষটি ঢোক গিলে বললো, "কোন দিক থেকে একটু বলবেন কি?"

০২.

প্রেমিকাঃ তুমি কি আমাকে সবসময় ভালবাসবে?

প্রেমিকঃ নিশ্চয়ই। কিন্তু কোন দিক থেকে ভালোবাসতে শুরু করব, বল দেখি?

০৩.

আদালতে ডিভোর্স বিষয়ক মামলা চলছে।

জজ সাহেবঃ আপনি ডিভোর্স চাইছেন কেন?

মিঃ জোনাথনঃ আজ দুবছর আমার স্ত্রীর সাথে কোন বাক্যালাপ নেই হুজুর।

জজ সাহেবঃ কিন্তু কিছুক্ষণ আগে বললেন, কিছুদিন আগেই আপনার স্ত্রীর একটি সন্তান হয়েছে?

মিঃ জোনাথনঃ সন্তানলাভের জন্য কথা বলার দরকার নেই হুজুর।

০৪

প্রেস রিপোর্টার মিসেস রহমানের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। রিপোর্টার জিজ্ঞেস করলেন, "আপনার ছেলে মেয়েদের বয়স কত?"

মিসেস রহমান বললেন, "বয়স! ধরুন এক, দুই, চার, পাঁচ, ছয়।"

রিপোর্টার জিজ্ঞাসা করলেন, "তিন গেল কোথায়?"

মিসেস রহমান বললেন, "ওহ সরি! ঐ বছরই আমরা হোম থিয়েটারটা কিনেছিলাম কিনা। ঐ যে যেবার গভীর রাতে সিনেমা দেখানো আরম্ভ হল।"

০৫.

রোগাসোগা নিরীহ এক ভদ্রলোকের গিন্নিটি দারুন ডাকসাইটে। একদিন গিন্নিটি তার কর্তাকে নিয়ে নতুন কাপড়চোপড় কিনতে বেরিয়েছেন। কাপড়ের দোকানে কর্তার জন্য একটি ট্রাউজার পছন্দ হল। দোকানদার জিজ্ঞেস করল, "এই সব ট্রাউজার অনেক ধরনের হয়। আপনাকে কোনটা দেব স্যার? বোতাম দেয়া না জিপার লাগানো?"

ভদ্রলোক তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন, "জিপার লাগানো।"

"ভাল কথা স্যার, তবে পাঁচ ইঞ্চির না দশ ইঞ্চির জিপার?" ফের জিজ্ঞেস করল দোকানী।

গিন্নি কিছু বলার আগেই ভদ্রলোক আবার বলে উঠলেন, "দশ ইঞ্চির।"

দোকান থেকে বেরিয়ে আসামাত্রই গিন্নি একেবারে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন, "দশ ইঞ্চির জিপার চাই তোমার না? তোমাকে দেখে আমার বাবার পাশের বাড়ির লোকটার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। লোকটা প্রত্যেকদিন সকালে ওর বাগানে গিয়ে গ্যারেজের তালা খুলে তারপর দশ ফুট লম্বা বিরাট ডাবল দরজার পাল্লাগুলো দড়াম করে খুলে ফেলে, তারপর ভেতর থেকে নিজের বাই-সাইকেলখানা বের করে নিয়ে আসে।"

০৬.

ধুসর গোধূলীর যমজ পুত্র সন্তান হয়েছে শুনে তার বন্ধু হিমু দেখা করতে এসে হাসি হাসি মুখে বললো, "তোর দিকে খোদা মুখ তুলে হেসেছে, কী বলিস?"

হিমুর কথা শুনে ধুসর গোধূলী তার আগের আটটি সন্তানের কথা চিন্তা করে বিষন্ন বদনে বললো, "এটা মুচকি হাসি নয়। খোদা এবার স্বয়ং আমার দিকে তাকিয়ে অট্টহাসি হেসেছেন।"

০৭.

শিক্ষকঃ তুষার তুমি বাংলাভাষাকে তোমার মাতৃভাষা বল কেন?

তুষারঃ কারন, বাবা বাংলা বলার বিশেষ সুযোগই পান না।

(সুত্রঃ ইন্টারনেট থেকে)

কয়েক টুকরো দারুচিনি ০২

০১

চাচার বাসায় গৃহপারিচারিকা রাখা হবে। পাশের বাসার বুয়া তার পরিচিত এক কিশোরীকে নিয়ে এসেছে। চাচা মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোর বাড়িতে কে কে আছে রে?”

সপ্রতিভ মেয়েটি কালবিলম্ব না করে উত্তর দিল, “আমার আব্বা, আম্মা, আর ছোট ভাই। আমার ভাই মাঝখানে শোয়!”

০২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষে পড়ি। বাসা থেকে বিড়ি খাওয়ার পয়সা নিতে লজ্জা লাগে তাই মগবাজারে একটা ছাত্র পড়াতে যাই। সে এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী। তার বড় ভাই আমার বছর দুয়েকের ছোট হবে। ছাত্রের মা’কে আমি আন্টি ডাকি।

একদিন কথা প্রসংগে ছাত্রের মা আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার মা’র বয়স কত?”

আমি বয়স বললাম। আন্টি বললেন, “ও! আমার মায়ের সমান বয়সী!”

আমি অবাক হয়ে ভাবলাম – আন্টি পাঁচ বছর বয়সে মা হলেন কোন জাদুবলে!

০৩

আমার বাসা কল্যাণপুরে। ইউনিভার্সিটিতে যাবার জন্য কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে সিএনজি ভাড়া করছি। প্রচুর সিগারেট খাই বলে বাসে উঠার আগে এক প্যাকেট ‘বেনসন এন্ড হেজেস’ কিনলাম। সিগারেট শখের জিনিষ – খেলে দামীটাই খেতে হয় তাই বেনসন এন্ড হেজেস খাই। সদ্য কেনা প্যাকেটটা ছিঁড়ে একটা সিগারেট মুখে দিলাম। আগুন জ্বালাতেই সস্তা সিগারেটের তিটকুটে স্বাদ পেলাম মুখে!

সিগারেটটা হাতে নিয়ে দেখি “নাসির গোল্ড” ছাপ্পড় মারা। অবাক হয়ে দোকানীকে জিজ্ঞাসা করলাম, "বিষয়টা কী?" পরিচিত দোকানী ততোধিক অবাক হয়ে বলল, “ক্যামনে কইতাম ভাই? বেনসনের গাড়ি এসেই তো দিয়ে গেল।”

আবজাব ০৪: কয়েক টুকরো দারুচিনি

০১

অরল্যান্ডো গিয়ে উঠলাম আমার জন্মদিনটিতে। উদ্দেশ্য খুবই সাদামাটা। আমার জন্মদিন উপলক্ষ্যে ওয়াল্ট ডিজনী ম্যাজিক কিংডম আর ইউনিভার্সাল স্টুডিওতে ঘুরে বেড়ানো।গিন্নি হোটেল বুক করেছেন। ঠিকানা মিলিয়ে অরল্যান্ডো এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে গিয়ে উঠলাম। বিছানা–বালিশ বুঝে পাবার পর রিসেপশন ডেস্কে বসে থাকা মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম, “এখানে খাওয়া দাওয়ার সময় কখন তা একটু বলবেন?”

মেয়েটি বুঝিয়ে বললো, “সকাল ৭ টা থেকে ৯ টার মধ্যে প্রাতঃরাশ। ১২ টা থেকে ৩ টার মধ্যে দুপুরের খাবার আর সন্ধ্যা ৭ টা থেকে ১০ টার মধ্যে রাতের খাবার সারতে হবে।”

মেয়েটির কথা শুনে একেবারে হতবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, “তাহলে ঘুরতে বের হব কখন?”

০২

আমাদের নূহের আমলে কেনা একটা ভিডিও ক্যামেরা আছে। আদিম যুগের হাই–৮ টেকনোলজি সমৃদ্ধ ক্যামেরা। কোথাও বেড়াতে গেলেই সেটা সাথে করে নিয়ে যেতে হয়। ক্যামেরাটা নিয়ে হাঁটাহাটিতে আমার বেজায় আপত্তি। ওটা আমার কাঁধে থাকলেই মনে হয় যেন রকেট লঞ্চার ঘাড়ে নিয়ে হাঁটাহাটি করছি। তাই গিন্নিই সেটা বহন করে থাকেন। আমি গিন্নির ব্যাগ বহন করি সানন্দ চিত্তে। আমার যুক্তি হচ্ছে, আমেরিকার বুকে রকেট লঞ্চার ঘাড়ে নিয়ে বেঘোরে প্রাণ হারানোর চাইতে বউয়ের ব্যাগ ঘাড়ে নিয়ে মান হারানোই উত্তম।এবারের ভ্রমণে অবশ্য খানিকটা ব্যতিক্রম ঘটলো। বউয়ের ব্যাগ বহনের হাত থেকে নিষ্কৃতি ঘটলো। ক্যামেরা মহাশয় স্থান পেলেন আমার কাঁধে ঝুলিয়ে রাখা ব্যাগে। আমার একমাত্র দায়িত্ব হচ্ছে ক্যামেরাটিকে ব্যাগের ভেতর ভরে বহন করা এবং গিন্নি চাহিবা মাত্রই তার হাতে তুলে দেয়া।

গিন্নি আমাকে বললেন, “জানো। আমরা একসঙ্গে যে দারুন সময়টুকু কাটাচ্ছি, তার সমস্ত স্মৃতি আমি রেকর্ড করে রাখছি।”
গিন্নির কথা শুনে আমি বললাম, “আমি ও রেকর্ড করে রাখার কথা ভাবছি।”
গিন্নি জিজ্ঞাসা করলেন, “তাই নাকি? সচলায়তনের জন্য কিছু লিখবে বুঝি?”
জবাবে বললাম, “না। মানে আমি আমার ক্রেডিট কার্ডের বিলগুলো জমিয়ে রাখার কথা বলছিলাম।”

০৩

গতবছর নিউ ইয়র্ক থেকে আলা–ফাকিং–বামাতে আসার পথে আমার ব্যাগ হারিয়ে গিয়েছিল। সেই সাথে আমাকে চিরকালের জন্য গাধা প্রমাণ করতে হারিয়ে গিয়েছিল ব্যাগের ভেতর রাখা পাসপোর্ট, সোস্যাল সিকিউরিটি কার্ড সহ যাবতীয় দরকারী কাগজ পত্র। সেদিনটি থেকেই গিন্নি আমাকে আমার কাগজ পত্র বহন করার দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছেন। অরল্যান্ডো যাবার দিন আটলান্টা এয়ারপোর্ট থেকে বিমানে উঠবো।প্রাথমিক সিকিউরিটি চেকিং পেরিয়ে আসল চেকিং এর জন্য উপস্থিত হলাম। কর্তব্যরত সিকিউরিটি অফিসারকে দেখে একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। বিশালকার শরীর – কমপক্ষে ঝাড়া ছয়ফুট চার ইঞ্চি লম্বা। তার সামনে আমার শীর্ণ দেহখানা নিয়ে বিরাট লজ্জায় পড়ে গেলাম।

অফিসার প্রথমেই আমার কাছে পরিচয়পত্র চাইলেন। আমি ক্যাবলাকান্তের মত গিন্নির দিকে তাকালাম। গিন্নি তার কাঁধে ঝুলিয়ে রাখা ব্যাগ কাঁধ থেকে নামালেন। তারপর ব্যাগটা খুলে সেখান থেকে নকশীকাঁথার কাজ করা লাল রংয়ের চমৎকার একটি ছোট্ট ব্যাগ বের করলেন। তারপর বড় ব্যাগটি বন্ধ করলেন। ব্যাগ বন্ধ করার পর তিনি বুঝতে পারলেন পাসপোর্টের সাইজ যা তা এই লাল রংয়ের ছোট্ট ব্যাগের ভেতর কুলাবে না। সুতারাং আবারও বড় ব্যাগ খানা খুললেন। লাল রংয়ের ছোট্ট ব্যাগটিকে বড় ব্যাগের ভেতর ঢোকানোর পর পাশের কোন একটা জিপার খুলে একটা জিপলক ব্যাগ বের করলেন। তারপর সেই জিপলক ব্যাগ খুলে আমার পাসপোর্টখানা বের করে বাড়িয়ে দিলেন সিকিউরিটি অফিসারের দিকে। অফিসার আমার পাসপোর্ট দেখলেন। গিন্নিরটাও দেখলেন। তারপর আমাদের বললেন, “ঠিকাছে।”

আমি একগাল হাসি দিয়ে বললাম, “Thank you officer!”

অফিসার আমার কাঁধে হাত দিয়ে বললেন, “Don’t worry! I have a boss at home as well!”

প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদ ও জামায়াত

অনেকদিন ধরেই কিছু লিখছি না। ভাবলাম একটা আবজাব লিখি। লিখতে বসে দেখি মাথায় কিছু আসে না। কী আর করা। একট পুরাতন লেখাই ছাড়ি না হয়। যারা আগে পড়েছিলেন তাদের আর সময় নষ্ট করতে হল না, আর যারা আগে পড়েননি তারা কী আর করবেন। পড়ে ফ্যালেন। এই লেখার পুরাতন নাম ছিল, “বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ: একটি জাতির জন্ম”।

মডুগণ আশা করছি ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন। কী করতাম লেখা বাইর হয় না‍!



পুরুষ ও স্ত্রী প্রজাতির দুজন সদস্যের মিলনের অন্তর্নিহিত প্রকৃয়ায় একটি শুক্রানুর সহিত একটি ডিম্বানুর নিষেকে যে কোষের সৃষ্টি হয় তাহাকে “জাইগোট” বলে। জাইগোট শুক্রানু ও ডিম্বানু উভয়ের জীনগত বৈশিষ্ট্যসমুহ ধারণ করে। জাইগোটের ডিএনএ’তে শতকরা ৫০ ভাগ জেনেটিক মেকআপ পিতা-মাতা থেকে আসে। উদ্ভিদ, প্রানী এবং মুক্তভাবে বিচরণক্ষম কিছু অর্গানিজমের জাইগোট তখন মাইটোসিস প্রকৃয়ায় বিভাজিত হতে শুরু করে।

প্রাণীকুলের ক্ষেত্রে জাইগোট থেকে ভ্রুনে পরিনত হবার ব্যাপারটুকু ব্লাষ্টুলা, গ্যাষ্টুলা এবং অর্গানোজেনেসিস নামক কয়েকটি ধাপে সংগঠিত হয়।

মনুষ্য ভ্রুন সৃষ্টির প্রথম চার সপ্তাহের মধ্যে মেরুদন্ড তৈরি হয়। পঞ্চম ও ষষ্ঠ সপ্তাহে এসে গর্ভধারিণীর রজঃনিবৃত্তি ঘটে। এসময় মানব ভ্রুন অর্গানোজেনেসিস প্রকৃয়ার ভেতর দিয়ে যেতে থাকে। হাত-পা সৃষ্টির উপসর্গ তৈরি হয়।

সপ্তম থেকে অষ্টম সপ্তাহে এসে মায়োজেনেসিস এবং নিউরোজেনেসিস প্রকৃয়া এমন এক ধাপে উন্নীত হয়, তখন মানবভ্রুন নড়াচড়া করতে শুরু করে। দেহে চোখ সৃষ্টি হতে শুরু করে।

এভাবে আরও কিছু প্রকৃয়ার ভেতর দিয়ে দেহের গঠন বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং ভুমিষ্টকালীন সময় নিকটবর্তি হতে থাকে। অবশেষে ৭ থেকে ১০ মাসের ভেতর একটি পূর্ণাঙ্গ মানব শিশু ভুমিষ্ট হয়।

উপরোল্লিখিত বিজ্ঞানটুকু ব্যবহার করে একটি জাতির জন্মপ্রকৃয়া বিশ্লেষণ করা যাক।

শেখ মুজিবুর রহমানকে বাঙালী তথা বাংলাদেশী জাতির জনক হিসাবে ডাকা হয়। বর্তমানে যদিও অনেকেই শেখ মুজিবুর রহমান কে জাতির জনক হিসাবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, কিন্তু তাদেরকে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিস্থাপক হিসাবে নতুন কারো নাম প্রস্তাব করতে বলা হলে পিছিয়ে যান। সুতারাং তত্ত্ব বিশ্লেষণের জন্য জনক হিসাবে একমাত্র উপযুক্ত প্রতিনিধি হিসাবে শেখ মুজিবুর রহমানকে ধরা হল।

আমরা জানি, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে নয়মাস যুদ্ধ করে বাংলাদেশের জন্ম হয়। উপরোল্লিখিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের বিশ্লেষণের জন্য পিতৃ অংশ হিসাবে শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাতৃ অংশের জন্য পাকিস্তানকে ধরে নিলে তত্ত্বটুকু বুঝতে সুবিধা হবে।

দেখা যাচ্ছে, শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের উপর উপুর্যপুরি উপগত হয়ে বাঙালী জাতির জন্ম দিয়েছে। একটি মানবভ্রুন সাধারণত ৭ মাসের পর ভুমিষ্ট হবার উপযোগী হয়ে যায়। বাংলাদেশ নামক ভ্রুনটি নয়মাস সময় ধরে ভুমিষ্ট হবার প্রকৃয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন করেছে।

১৯৭১ সালের শুরুর দিকে শেখ মুজিবুর রহমান কতৃক পাকিস্তানের জঠরে বাংলাদেশ নামক ভ্রুনটির নিষেকে জাইগোটের সৃষ্টি হয়।

সমাজ বিজ্ঞানীদের অনেকেই বলে থাকেন, পাকিস্তান সামাজিক জীবনের পবিত্রতা রক্ষায় অক্ষম ছিল। পাকিস্তানের বহুগামিতার কথা সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যায়ে অধ্যায়ে বর্ণীত রয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পাকিস্তানের বহুগামিতার সুযোগ নিয়ে গোলাম আযম, খাজা খয়ের উদ্দিন, মতিউর রহমান নিযামী, আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ পাকিস্তানের পূর্ব অংশে উপগত হয়েছিল।ফলশ্রুতিতে একটি জটিল প্রকৃয়ায় দুটি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শুক্রানু কতৃক একটি ডিম্বানু নিষিক্ত হয়ে পড়ে।

ডারউইনের বিখ্যাত তত্ত্ব “প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদ: যোগ্যতমের জয়” অনুসারে জাইগোটটি মাইটোসিস প্রকৃয়ায় বিভাজিত হবার বদলে একটি সবল এবং বড় অংশ আরেকটি দুর্বল ও ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সবল অংশটিতে শেখ মুজিবুর রহমানের শুক্রানুর বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হতে থাকে। ক্রমান্ময়ে বড় অংশটি অমরার দখল নিয়ে নিতে থাকে এবং দুর্বল অংশটিকে কোনঠাসা করে পায়ুপথের দিকে ঠেলে দিতে থাকে।

ধীরে ধীরে দুটি অংশই মাতৃজঠরে বেড়ে উঠতে থাকে। অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বরে সবল অংশটি স্বাভাবিক প্রকৃয়ায় ভুমিষ্ট হয়-দুর্বল অংশটি জায়গা না পেয়ে পায়ুপথে পৃথিবীর আলো দেখে।

সবল অংশটির নাম দেয়া হয় বাঙালী তথা বাংলাদেশী আর দুর্বল অংশটিকে রাজাকার প্রসুত জামায়াত-শিবির নামে অভিহিত করা হয়।

আমার সর্ম্পকে



Visitor Map